ব্লুটুথ কিভাবে কাজ করে

প্রযুক্তির পৃথিবী অনেক দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এ কথা আমরা সবাই জানি। এমন একটি সময় ছিল যখন আমরা তারের হেডফোন ব্যবহার করতাম। যেখানে সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যাপার ছিল হেডফোনের তার গুলো অনবরত জট লেগে যেত। কোন গুরুত্বপূর্ণ কল আসলে এই জট লাগানো তার খুলে সাথে সাথে এটাকে ব্যবহার করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। আবার দেখা যেত ফোনের ইউএসবি কেবলটি হয়তো খুজে পাচ্ছি না।

এই অসহ্য ঝামেলা গুলো থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য এবং আমাদের জীবনকে আরো সহজ করে তোলার জন্য ব্লুটুথ এর ভূমিকা অপরিসীম। আজকের পোস্টে আমরা জানার চেষ্টা করব কিভাবে এই ব্লুটুথ তার ছাড়া কাজগুলো সম্পাদন  থাকে? চলুন শুরু করি।

ব্লুটুথ এর নামকরণ করা হয়েছে দশ শতকের একজন ডেনিশ রাজার নামে, ঘটনাক্রমে দুটি ডিভাইসের মধ্যে সরাসরি তথ্য প্রেরণ করতে রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। ব্লুটুথে যে রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় তা ওয়াইফাই বা সেলুলার সিগন্যালের তুলনায় অনেক দুর্বল। দুর্বল রেডিও তরঙ্গের সুবিধা হল তাদের তৈরি করতে খুব কম শক্তি ব্যয় হয় যা ব্লুটুথকে ব্যাটারিচালিত ডিভাইস গুলির জন্য উপযোগী প্রযুক্তি হিসেবে গড়ে তোলে। দুর্বল রেডিও তরঙ্গের অর্থ হল এটি অল্প দূরত্বে কাজ করবে এবং এই দূরত্ব হতে পারে প্রায় ৩০ ফুট বা ১০ মিটারের কিছু কম। (তবে বাণিজ্যিকভাবে দীর্ঘ পরিসরে যখন ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহার করা হয় তখন সেখানে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়)

ডিভাইস গুলোতে যখন ব্লুটুথ অপশনটি চালু করা থাকে এবং একে অপরের কাছাকাছি থাকে তখন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একে অপরকে সনাক্ত করে। ব্লুটুথ ২.৪ গিগাহার্জের কাছাকাছি একটি ছোট ব্যান্ডে ৭৯ টি ভিন্ন রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করে। একই ধরনের ব্যান্ড Wi-Fi দাড়াও ব্যবহৃত হয় কিন্তু ব্লুটুথ এত কম শক্তি ব্যবহার করে যে Wi-Fi প্রযুক্তির কাছে তা অত্যন্ত নগণ্য। যখন ব্লুটুথ এর মাধ্যমে দুটি ডিভাইস পেয়ার করা হয় তখন তারা সংযোগ স্থাপনের জন্য এলোমেলো ভাবে ৭৯ টি ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে থেকে একটি বেছে নেয়। একবার সংযোগ স্থাপিত হয়ে গেলে তারা সেকেন্ডে বহুবার এই ফ্রিকোয়েন্সিগুলির সাথে যুক্ত হতে থাকে। ডিভাইসগুলি একে অন্যের থেকে খুব বেশি দূরে সরে গেলে সংযোগটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং সেগুলি আবার সীমার মধ্যে আসলে পুনরায় সংযোগ স্থাপিত হবে। ব্লুটুথ সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ডিভাইস গুলোতে বিভিন্ন নিরাপত্তা পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন ডিভাইসের সাথে সংযোগ করার ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে।

সমস্ত তথ্যটি জানার পর আপনি ব্লুটুথকে কিছুটা শান্ত হ্রদে সাঁতার কাটা হাঁসের মতো ভাবতে পারেন। যার পৃষ্ঠের নিচে রয়েছে প্রযুক্তির এক বিপুল সন্নিবেশ যা সংযোগ স্থাপনের জন্য কাজ করে এবং সহজে ডাটা স্থানান্তরিত করতে পারে। অপরদিকে পৃষ্ঠের নিচে সব কিছু শান্ত এবং অনায়াসে সংঘটিত হচ্ছে।

Leave a Comment