ফাইভ-জি

প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে ইন্টারনেট দুনিয়ায় একছত্র রাজত্ব করছে উন্নত দেশগুলো। এই একবিংশ শতাব্দীতে এটি অনস্বীকার্য যে, যে দেশ প্রযুক্তিতে যত উন্নত সে দেশ অর্থনৈতিকভাবে তত উন্নত। বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে তাকিয়ে থাকতে হয় বহির্বিশ্বের প্রযুক্তির অগ্রগতির দিকে। অর্থাৎ কোন একটি সেবা বহির্বিশ্বের চালু হওয়ার দীর্ঘদিন পরে তা আমরা আমাদের দেশে ব্যবহার করতে পারি। বহির্বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এর কথা ভাবছে এমনকি অনেকে চালু করে ফেলেছে তখন আমাদের দেশে মাত্র ফোরজি চালু হয়েছে এবং সেটা নিয়েও মানুষের মনে প্রশ্ন আছে আমরা কতটুকু ৪জি এর আওতায় আছি। যাই হোক সবকিছু মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করে যেতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

বিভিন্ন দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভ জি চালু করা হয়েছে। ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট হবে অনেক দ্রুত গতি সম্পন্ন যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ২০ গুণ দ্রুতগতির হবে। অর্থাৎ আমরা অনেক কম সময়ে ডাউনলোড অথবা আপলোড করতে পারব।

ফাইভ-জি আসলে কি? এর আবিষ্কারক কে? এটি কিভাবে কাজ করে? আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এর ভূমিকা কি হবে? আমাদের পুরাতন ফোনেই কি এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে? প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এই নেটওয়ার্ক কেমন হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমরা এই নিবন্ধে জানার চেষ্টা করব। আশা করি এই পোস্টটি আপনাদেরকে ফাইভ-জি সম্পর্কে জানতে অনেক সাহায্য করবে।

ফাইভ-জি কি?

ফাইভ-জি বলতে আসলে বোঝায় ইন্টারনেটের পঞ্চম জেনারেশন (সংক্ষেপে ফাইভ-জি)। এই নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেক দ্রুত গতিতে ইন্টারনেটে তথ্য ডাউন লোড এবং আপলোড করা যাবে। যা আমাদের ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময় অনেক কমিয়ে দেবে এবং আমরা অনেক বেশি কাজ ইন্টারনেটে করতে পারব।

আমরা জানি যে, একই স্থানে অনেক মোবাইল ফোন একসাথে ব্যবহার করা হলে নেটওয়ার্ক এর উপরে চাপ পড়ে এবং আমাদের কাজগুলো করতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু ফাইভ জি আরো বেশি রেডিও তরঙ্গের ব্যবহার করবে যার ফলে নেটওয়ার্ক ড্রপ হবে না এবং একই স্থানে অনেক বেশি মোবাইল ব্যবহার করলেও তা দ্রুত গতিতে কাজ করবে।

একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, যখন কোন পরীক্ষার ফলাফল পাবলিশ করা হয় তখন আমরা সবাই সেই ফলাফল পাওয়ার জন্য চেষ্টা করি এবং দেখা যায় সবাই একসাথে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে আমরা ফলাফলের সাইটগুলোতে ভিজিট করতে পারিনা। যে সমস্যা ফাইভ-জি ধারা সমাধান করা সম্ভব।

[বি:দ্র: একটি কথা এখানে বলে না রাখলেই নয় সেটা হল ইলন মাস্ক ঘোষণা দিয়েছেন তিনি তার যে টেসলা ফোন আনতে যাচ্ছেন তাতে স্টারলিং স্যাটেলাইটের সাথে সংযোগ ব্যবস্থা থাকবে আর এই প্রযুক্তি আসলে মোবাইলের এই সেলুলার নেটওয়ার্ক গুলোর সাবস্ক্রাইবার কেমন কি থাকবে তা এখনো সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না]

ফাইভ-জি প্রথম কে আবিষ্কার করেছিল?

ফাইভ-জি তৈরির পদক্ষেপ বৃহৎ পরিসরে প্রথম গ্রহণ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে। সেই সময়ে বিশ্বের আরো ৮৮টি দেশের প্রায় ২২৪ টি কোম্পানি এই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছিল।

বর্তমানে বিশ্বে নয়টি এমন কোম্পানি রয়েছে যারা ফাইভ-জি রেডিও হার্ডওয়্যার এবং ক্যারিয়ারের জন্য সিস্টেম বিক্রি করে। এগুলো হল এরিকসন, নোকিয়া, হুয়াওয়ে, স্যামসাং, কোয়ালকম, জেড.টি.ই. অ্যালটিয়োস্টার, সিস্কো সিস্টেমস এবং ডেটান টেলিকম।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ফাইভ-জি কি ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে?

পৃথিবীর বিখ্যাত মোবাইল তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওপেন সিগন্যালের কর্মকর্তা ইয়ান ফগ বলেছেন ”আমরা আমাদের স্মার্টফোন দিয়ে এখন যাই করি না কেন, ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক হলে তা আমরা আরো দ্রুত গতিতে এবং অনেক ভালোভাবে করতে পারবো,”

আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি, আমরা যখন ইন্টারনেটে কোনো উন্নত মানের অর্থাৎ অনেক বেশি রেজুলেশনের ভিডিও দেখতে চাই কিংবা অনেক বেশি রেজুলেশনের কোন ছবি ওপেন করি অথবা অনলাইনে গেম খেলার সময় আমাদের নেটওয়ার্ক বাগিং এর শিকার হতে হয়। কখনো কখনো অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয় অর্থাৎ লোডিং হতে অনেক সময় লাগে। একবার ভেবে দেখুন মেটাভার্সের মত বিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি(যা এখনো ভবিষ্যৎ), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি(ভি.আর.), অগমেন্টেড রিয়েলিটি ইত্যাদি বিষয়গুলো আমাদেরকে এবং আমাদের সমাজকে দিন দিন কত আধুনিক করে তুলছে। যা সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই আমাদের উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট প্রয়োজন। প্রযুক্তিবিদরা মনে করছেন ভবিষ্যতে এমন উন্নত সব নতুন প্রযুক্তি আসতে যাচ্ছে যা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না।

চালকবিহীন গাড়ি :
চালকবিহীন গাড়ি তৈরির গুঞ্জন আমরা দীর্ঘদিন থেকেই শুনে আসছিলাম যা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ইলন মাস্ক এর টেসলা যার একটি কিংবদন্তি উদাহরণ। এ ধরনের প্রযুক্তি চালানোর জন্য আমাদের অবশ্যই অনেক শক্তিশালী নেটওয়ার্কের প্রয়োজন। এসকল গাড়িতে লাইভ ম্যাপ ব্যবহার করা হয় যা সচল রাখার জন্য অনেক উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন।
গবেষণা :
আজকাল গবেষণার কাজে অনেক উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক কাজ মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয় বা অনেক স্থানে মানুষের পক্ষে পৌঁছানো দুঃসাধ্য। কিন্তু সেই জায়গাগুলোতে ড্রোন অটোমেটিক প্রযুক্তির সাহায্যে সহজেই পৌঁছাতে পারবে। যা গবেষণার কাজকে অনেক সহজ করে তুলবে আর এজন্য দরকার অনেক দ্রুতগতিসম্পন্ন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। যেখানে ফাইভ-জির ভূমিকা হবে অপরিসীম।
মোবাইল গেমিং :
বলাই বাহুল্য মোবাইল গেমিং এর ক্ষেত্রে ফাইভ-জি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফাইভ-জি অনেক বেশি রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করবে বলে মোবাইলে গেম খেলতে কোনরকম বাধার সম্মুখীন হতে হবে না।
ভিডিও কলিং :
ভিডিও কলিং এর ক্ষেত্রে আরো অনেক পরিষ্কার ছবি দেখা যাবে। কোনরকম ল্যাগিংসের সমস্যা থাকবে না।
অন্যান্য :
• শরীরে লাগানো ফিটনেস ট্র্যাকারগুলো প্রয়োজনীয় সময়ে অনেক নিখুঁত সংকেত দিতে পারবে। জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য কোন নোটিফিকেশন দ্রুত পাঠাতে সক্ষম হবে।
• সিকিউরিটি সিস্টেম গুলো অনেক দ্রুত এবং অনেক নিখুঁতভাবে কাজ করবে।
• ট্রাফিক সিস্টেম আরো উন্নত করা সম্ভব হবে।
• অনেক উন্নত মানের অর্থাৎ উচ্চ রেজুলেশনের ভিডিও কোনো বাধা ছাড়াই উপভোগ করা যাবে।
ফাইভ-জি কিভাবে কাজ করবে?
ফাইভ-জি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রযুক্তি। যা এখনো পরীক্ষা দিন অবস্থায় রয়েছে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর বিভিন্ন বড় বড় শহরে এখন ফাইভ-জি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ফাইভ-জি এর ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড হবে অনেক হায়ার রেটের (৩.৫ গিগাহার্জ থেকে ২৬ গিগাহার্জের মতো) যা অনেক ক্ষমতা সম্পন্ন। কিন্তু তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে অনেক স্বল্প হওয়ার কারণে তাদের আওতা থাকে কম যার ফলে সামনে কোন বাধা পেলে সেগুলো সহজেই আটকে যেতে পারে। এইজন্য ফাইভ-জি এর বেস স্টেশনগুলোর কাভারেজ এরিয়া অনেক কম হয় বলে ঘন ঘন বেস স্টেশন ব্যবহার করতে হয় যা অনেক ব্যয়বহুল।
ফোর-জির সাথে ফাইভ-জির পার্থক্য কি?
এক কথায় ফোর-জি এবং ফাইভ-জি দুটি নেটওয়ার্কের কনসেপ্টই সম্পূর্ণ আলাদা।
ফাইভ-জি একেবারে নতুন একটি রেডিও প্রযুক্তি যা ফোর-জির তুলনায় অনেক গুন উচ্চগতিসম্পন্ন। ফোরজি যেখানে ৭০০ থেকে ২০০০ মেগাহার্জের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে সেখানে ফাইভ জি ৩.৫ থেকে ২৬ গিগাহার্জের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করবে। প্রথমদিকে কোম্পানিগুলো গ্রাহক সেবা দেওয়ার জন্য ফোর-জি নেটওয়ার্ককে আপডেট করে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক-এ পরিনত করবে যার জন্য দ্রুতগতির ব্যাপারটি প্রথমে তেমন বোঝা না গেলেও পরবর্তীতে আমরা তা অবলোকন করতে পারব। কেননা দ্রুতগতির ব্যাপারটি নির্ভর করবে কোম্পানিগুলো কোন স্পেকট্রাম ব্যান্ডে ফাইভ-জি ব্যবহার করছে এবং ট্রান্সমিটারের ওপর কত বিনিয়োগ করছে তার ওপর। ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এর জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সমিটারগুলি অবশ্যই অনেক উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন হতে হবে।
ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের গতি কত হতে পারে?
এখন পর্যন্ত আমরা একটা ধারণা পেয়ে গেছি ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এর গতি কত হতে পারে। বর্তমানে যে ফোর জি প্রযুক্তির নেটওয়ার্ক আমরা ব্যবহার করি তা গড়ে সর্বোচ্চ ৪৫ এমবিপিএস পর্যন্ত গতি সুবিধা দিতে সক্ষম। যদিও ধারণা করা হচ্ছে যে, ফোর-জি নেটওয়ার্কেই ১ গিগাবাইট প্রতি সেকেন্ড গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট একসময় ব্যবহার করা যাবে।
বিশ্ব বিখ্যাত প্রসেসর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম বলছে, ফাইভ জি এর চেয়েও ১০ থেকে ২০গুণ বেশি গতি দিতে পারবে।
একটি উদাহরণ থেকে আমরা ফাইভ-জির গতি সম্পর্কে আরো ভাল ধারনা পেতে পারি, যেমন : একটি ভালো মানের(উচ্চ রেজুলেশন) সিনেমা ডাউনলোড করতে হয়তো আমাদের মাত্র এক মিনিট সময় লাগতে পারে।
ফাইভ-জি আমাদের কেন দরকার ?
যত দিন যাচ্ছে মানুষ তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে এবং প্রতিনিয়ত আমাদের আরো বেশি তথ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হচ্ছে। মানুষ এখন ধীরে ধীরে ভিডিওর দুনিয়ায় প্রবেশ করছে যার ফলে এই ভিডিও ফাইল গুলো শেয়ার করা, আপলোড করা বা ডাউনলোড করার জন্য অনেক উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থার প্রয়োজন। আর এজন্য ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এর গুরুত্ব অপরিসীম।
বর্তমান সময়ে আমরা যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করি তা পর্যাপ্ত গতি দিতে পারে না বলে আমাদের কাজকর্ম বাধাপ্রাপ্ত হয়। দেখা যায় কোন ফাইল আপলোড বা ডাউনলোড করতে অনেক বেশি সময় লাগে আবার হয়তোবা ডাউনলোড হতে হতে হঠাৎ করে ডাউনলোড বন্ধ হয়ে যায়। এরকম পরিস্থিতিতে আমাদের নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করা আসলেই সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়ে। এইজন্য ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক আমাদের প্রয়োজন কারণ এরকম পরিস্থিতিতে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক খুব ভালো সমাধান দিতে পারবে।
বাংলাদেশ ফাইভ-জির অবস্থা কি?
বেশিরভাগ দেশ ইতোমধ্যে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সেবা চালু করেছে। আমাদের বাংলাদেশেও ফাইভ-জি প্রকল্পের কাজ চলছে। টেলিটক বাংলাদেশের প্রথম ফাইভ জি সেবা নিয়ে আসছে যার সাথে থাকবে বিশ্ব বিখ্যাত কোম্পানি হুয়াওয়ে। টেলিটকের সাথে হুয়াওয়ের যে চুক্তি হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে হুয়াওয়ে টেলিটককে ফাইভ জি প্রযুক্তি চালু করার ক্ষেত্রে বিশ্ব মানের সেবা প্রদান করবে।
দেশে ফাইভজি চালু করার ক্ষেত্রে হুয়াওয়ে টেলিটককে তার উচ্চমানের ‘আরএএন’ ইউনিট প্রদান করবে। এর মধ্যে এএইউ (অ্যাকটিভ অ্যান্টেনা ইউনিট) যা ফাইভজি এর নতুন যুগে টেলিটক নেটওয়ার্কের কার্যকারিতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। হুয়াওয়ের তৈরি ৬৪টি৬৪আর মিমো এএইউ প্রযুক্তির একটি বিশেষ কার্যকারিতা হলো এটি বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রযুক্তি সাইটে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাবে এবং দমকা হাওয়ার চাপেও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করবে।
আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, এরই মধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সাইটে হুয়াওয়ে ও টেলিটকের যৌথ পরীক্ষা থেকে ব্যবহারকারীদের জন্য এক দশমিক পাঁচ জিবিপিএস পিক ইন্টারনেট গতি এবং ৭~১০ মিলিসেকেন্ড ল্যাটেন্সির মতো দারুণ ফলাফল পাওয়া গেছে।
বর্তমান ফোরজি ফোনে কি ফাইভ-জি ব্যবহার করা যাবে?
অবশ্যই না। যে স্মার্টফোনে ফাইভ-জি সেটিংস নেই সে স্মার্টফোনে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে না। স্মার্ট ফোনের সেটিংস অপশন থেকে নেটওয়ার্ক চেক করা যায়।
এন্ড্রয়েড ফোনের সাধারণত কানেকশন অথবা নেটওয়ার্ক সেটিংস অপশনটির ভেতরে এই সেটিংস টি থাকে। বর্তমানে অনেক কোম্পানি ফাইভ-জি সেটিং সম্বলিত ফোন বাজারে আনছে। ফোরজি স্মার্টফোন থেকেও ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে যদি স্মার্টফোনটিতে ফাইভ-জি সেটিংস থাকে।
আইফোনের ক্ষেত্রে আইফোন-১১ সিরিজ পর্যন্ত কোন স্মার্টফোনে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ছিল না। তবে অ্যাপেল কোম্পানি আইফোন-১২ সিরিজ থেকে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক দেওয়া শুরু করেছে।
ফোর-জি প্রযুক্তি বাজারে আসার পূর্বেই অনেক কম্পানি ফোরজি স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে এসেছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ইয়ান ফগ বলছেন, ফোর-জির মত‌ এবার হয়তো কোম্পানিগুলো সেই একই কাজ করবে না। কোম্পানিগুলো খুব শিগগিরই ফাইভ-জি সম্বলিত ফোন বাজারে আনবে তবে এই ফোনগুলো ফোর-জি নেটওয়ার্কেও রান করবে।
ফাইভ-জি কি ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক এর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে?
তারের মাধ্যমে ইন্টারনেট কানেকশন পাওয়া যায় তা অনেক স্থিতিশীল হয় অর্থাৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট কানেকশন দেয়া সম্ভব হয়। তাই এক কথায় বলা চলে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এর কারনে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সহজে বন্ধ হবে না।
শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং অফিসগুলো আগামী অনেক বছর ব্রডব্যান্ড লাইনের ওপর নির্ভর করবে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে কতটা কার্যকর হবে ফাইভ-জি?
শুধু বাংলাদেশ নয় বিভিন্ন উন্নত দেশগুলোতেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল এই এই এই পাওয়া যায় না। এই অঞ্চল গুলোতে ঠিকঠাক ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া একটি বড় সমস্যা। তবে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক হয়তো এই মুহূর্তে সমস্যার সমাধান আনতে পারবে না, কিন্তু ভবিষ্যতে ফাইভ-জি এই সমস্যার সমাধান করে ফেলবে কারণ এটি উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির ব্যান্ডে কাজ করে। ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে একসাথে অনেক মানুষকে সেবা প্রদান করা সম্ভব যদিও এর এরিয়াটা ছোট হয়। তাই ফাইভ জি তার যাত্রার শুরুর দিকে শুধুমাত্র শহরের এলাকার মানুষজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
প্রকৃতপক্ষে অফিস-আদালত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সবকিছু শহর এলাকায় কেন্দ্রীভূত হওয়ার কারণে সরকারি সহায়তা ছাড়া কোনো নেটওয়ার্ক অপারেটর ফাইভ-জি প্রযুক্তি নিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় যাবে না।
[উল্লেখ্য : ইলন মাস্ক যদি টেসলা ফোনকে স্টারলিনক স্যাটেলাইটের সাথে সংযোগ দিয়ে ফেলে তাহলে নেটওয়ার্ক সমস্যার একটি চিরন্তন সমাধান বের হয়ে আসবে।]

Leave a Comment